বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

 সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা যেন নীরব সন্ত্রাসের রাজত্ব

সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা যেন নীরব সন্ত্রাসের রাজত্ব

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাত যতই গভীর হয় সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নেমে আসত এক অদৃশ্য আতঙ্ক। দিনের ব্যস্ততা থেমে গেলে, অন্ধকারের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা থাকে চরম অনিশ্চয়তায়। ছিনতাই, মাদক লেনদেন ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা এলাকাজুড়ে নীরব সন্ত্রাসের রাজত্ব। অনেকেই মুখ খুলতে সাহস  পায় না।

বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি  গভির রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাভার আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল সাভার বাসস্ট্যান্ড সড়ক এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে কিছু মানুষের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে যেখানে একদল ছিনতাইকারী কয়েকজন পথচারীকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছিল এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই সেনাসদস্যরা দ্রুত ও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা যেন নীরব সন্ত্রাসের রাজত্ব

মুহূর্তেই শুরু হয় ধাওয়া। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই (০২) জনকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার হয় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য। কিন্তু অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। আশপাশ এলাকায় তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পরিচালিত অভিযানে আরও দুই  জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত।

আটককৃতরা হলো, জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), রিপন মিয়া (৪০) মোঃ শাহিন ইসলাম (১৮) পিতা: মোঃ বাচ্চু, ঠিকানা: বনপুকুর, সাভার,  মোঃ রাসেল (১৮) পিতা: লতিফ মিয়া, ঠিকানা: সাভার স্ট্যান্ড আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির অর্থ এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, চক্রটি যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে পারত। সময়োচিত এই অভিযানের ফলে সম্ভাব্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা যেন নীরব সন্ত্রাসের রাজত্ব

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এ চক্রটি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ এ অভিযানের জন্য সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তিবর্গ ও উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com